আমার এই পৃথিবী শুরু থেকেই বৈচিত্র্যময়। আমাদের জন্মের আগের সময়ের বৈচিত্র্য আমরা খুঁজে পাই আগেকার মানুষের লিখে যাওয়া নানা বই ও পুঁথিতে। আগেই যেমন আমাদের এই পৃথিবীর বুকে ঘটে যেত কত ঘটনা, তেমন আজো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কত না কিছু ঘটে যাচ্ছে। কত আজব ঘটনা, তার কোনো হিসেবে নেই। নানা মজার গল্প, বিস্ময় কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে পরত পরতে। কত রীতি-নীতি, যা মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। কত কিছু আবার আমাদের অবাক করে তোলে। আর এই কারণেই তো এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবী ছেড়ে যেতে চায়না মানুষ।
তবে যেসব রীতিনীতি আমাদের অবাক করে আজকের দিনে, সেইসব রীতিনীতি কিন্তু তৈরি হয়েছিল প্রাচীনকালেই। মানব সভ্যতার সকনগে সৃষ্টি হয়েছিল কিছু আশ্চর্যকর বিষয়। তবে মানব সভ্যতার সৃষ্টির পুরোটাই বেশ বিস্ময়কর। তবে মানব সভ্যতা সবার আগে গড়ে উঠেছিল নদীর পাশেই। সেই কারণে সিন্ধু থেকে মেসোপটেমিয়া, সব সভ্যতাই নদীমাতৃক ছিল। তবে শুনলে অবাক হবর্ণ যে পৃথিবীতে এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে কোনো নদীই নেই। নদীমাতৃক না হয়েও এই দেশ আজ উন্নতির শিখরে রয়েছে। জানেন, কোন দেশে একটিও নদী নেই। জেনে নিন।
ভারতের থেকে কাছেই রয়েছে সেই দেশ, যেখানে কোনো নদী নেই। আর সেই দেশটি হল সৌদি আরব। আরব্য মরু এলাকার এই দেশের মাটিতে একটিও নদী প্রবাহিত হয়নি। বলা বাহুল্য, এই মরু দেশে প্রাচীনকাল থেকেই কোনো নদী নেই। তাহলে এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন যে নদী ছাড়া এই দেশে স্বাদু জলের উৎস কি। তাহলে বলে রাখি, এই দেশের মানুষজন এখনো পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ জলের উপরেই নির্ভরশীল। তাই এই দেশে এখনো অনেক গভীর কুয়ো বা কূপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর সেই জল পান করেই বেঁচে থাকেন সৌদির মানুষজন।
তবে জানা গেছে, এই ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার দীর্ঘদিন হওয়ার কারণে এবং সেই এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতির কারণে এই জলের ভান্ডার শেষের মুখে। তাই জলের উৎস নিয়ে সেই দেশে বাড়ছে সমস্যা। কিন্তু নদী না থাকলেও এই দেশের দুদিকে রয়েছে দুই সাগর। এর মধ্যে পূর্বে রয়েছে পারস্য উপসাগর এবং পশ্চিমে রয়েছে লোহিত সাগর। তাই সমুদ্রের নোনা জলকে শোধন করে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে সেখানে। তবে এই পদ্ধতি খুবই ব্যয়বহুল। সেই কারণেই জলের সমস্যা মেটাতে এই দেশের অনেকটা রাজস্ব খরচ হয়। এককথায়, নদীর অভাবে সৌদি আরবে জলের সংকট বেশ লক্ষ্যনীয়। তাই নদীর এই গুরুত্ব বুঝে আমাদের সকলকে আশেপাশের নদী রক্ষা করা উচিত।